বায়ার্নকে বিদায় করে টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে পিএসজি

Tanjir Khan Rony | প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৬, ০৫:৫১
বায়ার্নকে বিদায় করে টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে পিএসজি

আলিয়াঞ্জ অ্যারেনার গ্যালারিতে তখন উৎসবের প্রস্তুতি, কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানির চোখে-মুখে ম্যাচটিকে স্মরণীয় করার দৃঢ় প্রত্যয়। কিন্তু মাঠের ফুটবল চিত্রনাট্য লিখল ভিন্ন এক গল্প। নিজেদের সেরা ছন্দের ধারেকাছেও যেতে পারেনি বায়ার্ন মিউনিখ। শেষ মুহূর্তে গোল করে ১-১ ড্রয়ে হার এড়ালেও পিএসজির জয়রথ থামাতে পারেনি বাভারিয়ানরা। দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৫ গোলের জয়ে বায়ার্নকে বিদায় করে দিয়ে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে লুইস এনরিকের পিএসজি।


নিজেদের মাঠে বায়ার্ন যখন গুছিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে, ঠিক তখনই তৃতীয় মিনিটে বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো আক্রমণ করে বসে পিএসজি। বাঁ দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে দারুণ এক কাট-ব্যাক করেন জর্জিয়ান জাদুকর খাভিচা কাভারাৎসখেলিয়া। সেই বল ধরে নিখুঁত বাঁ পায়ের শটে জাল কাঁপান ব্যালন ডিঅ’র জয়ী তারকা উসমান দেম্বেলে। এই গোলের অ্যাসিস্টের মাধ্যমে একটি অনন্য কীর্তি গড়েন কাভারাৎসখেলিয়া; ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের এক আসরের নকআউট পর্বে টানা সাত ম্যাচে গোল অথবা অ্যাসিস্ট করার রেকর্ড নিজের করে নেন তিনি।


পুরো প্রথমার্ধজুড়ে বায়ার্ন মিউনিখ বল দখলে এগিয়ে থাকলেও গোলমুখে ছিল খেইহারা। তবে মাঠের উত্তাপ বেড়ে যায় ৩০ মিনিটে। পিএসজির নুনো মেন্দেসের হাতে বল লাগলে পেনাল্টি ও দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের আবেদন জানায় স্বাগতিকরা। এরপর জোয়াও নেভেসের হাতে বল লাগলে আবারও পেনাল্টির জোরালো দাবি ওঠে। কিন্তু পর্তুগিজ রেফারি দুবারই বায়ার্নের দাবি নাকচ করে দিলে সাইডলাইনে ক্ষোভে ফেটে পড়েন কোচ কোম্পানি। রেফারির এই সিদ্ধান্তগুলো ম্যাচের পর নিশ্চিতভাবেই বড় আলোচনার খোরাক জোগাবে।


প্রথম লেগে একটি সেভও করতে না পারা অভিজ্ঞ জার্মান গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়ার এই রাতে ছিলেন প্রাচীর হয়ে। একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করে তিনি বায়ার্নকে লড়াইয়ে টিকিয়ে রেখেছিলেন। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে পিএসজির দিজিরে দুয়ে ও কাভারাৎসখেলিয়ার বেশ কয়েকটি নিশ্চিত গোল আটকে দেন তিনি। 


অন্যদিকে বায়ার্নের মূল ভরসা হ্যারি কেইন পুরো ম্যাচেই ছিলেন নিজের ছায়া হয়ে। তবে খেলার একেবারে শেষদিকে অতিরিক্ত সময়ের চতুর্থ মিনিটে আলফুস ডেভিসের পাস থেকে চমৎকার এক গোল করে সমতা ফেরান কেইন। এই গোলটি মিউনিখের দর্শকদের মনে ক্ষীণ আশার আলো জ্বালালেও তা ম্যাচে ফেরার জন্য যথেষ্ট ছিল না।


গত আসরে এ মাঠেই ইন্টার মিলানকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে প্রথমবার ইউরোপ সেরার মুকুট পরেছিল পিএসজি। এবার সেই মাঠ থেকেই ফাইনালে ওঠার ছাড়পত্র নিয়ে ফিরল ফরাসি চ্যাম্পিয়নরা। টানা দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের পথে তাদের সামনে এখন একটি বাধা। 


আগামী ৩০ মে হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে শিরোপা লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ প্রিমিয়ার লিগের জায়ান্ট আর্সেনাল। ২০ বছর পর ফাইনালে ওঠা আর্সেনাল কি পারবে পিএসজির আধিপত্য ভাঙতে, নাকি লুইস এনরিকের দল ইউরোপের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখবে এখন সেই অপেক্ষাতেই ফুটবল বিশ্ব।


মন্তব্য করুন

Login to comment

আন্তর্জাতিক নিয়ে আরও পড়ুন

Global Before Footer