ইন্টারনেটের তথ্যজট: সবকিছু জানার চাপে নয়, বেছে নেওয়ার বুদ্ধিতেই স্বস্তি
Mousumi Nargis lucky |
প্রকাশ: ০১ মার্চ ২০২৬, ১৫:৫০
ইন্টারনেটে তথ্যের অভাব নেই—বরং সমস্যাই হলো অতিরিক্ত তথ্য।
ভালো কনটেন্টের সঙ্গে ভুয়া, বিভ্রান্তিকর ও সময়নাশা তথ্যের ভিড়ে ব্যবহারকারীর মনোযোগ আটকে রাখতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো নকশা করা হয়েছে।
তাই বিশেষজ্ঞরা এখন ‘সমালোচনামূলক উপেক্ষা’—অর্থাৎ সচেতনভাবে কিছু বিষয় এড়িয়ে চলার কৌশলের ওপর জোর দিচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ‘সমালোচনামূলক চিন্তা’ যথেষ্ট নয়। ইন্টারনেটে প্রতিটি তথ্য যাচাই করতে গেলে সময় শেষ হয়ে যায়, তথ্য শেষ হয় না।
উপরন্তু, বিভ্রান্তিকর কনটেন্টে মনোযোগ দেওয়াই অনেক সময় অসাধু চক্রের উদ্দেশ্য পূরণ করে।
এই পরিস্থিতিতে তিনটি কার্যকর কৌশল প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রথমত, ডিজিটাল পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ—অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা, নির্দিষ্ট সময়ে বার্তা দেখা এবং বিজ্ঞাপনের জন্য ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার সীমিত করা।
দ্বিতীয়ত, ‘ল্যাটেরাল রিডিং’ বা পাশাপাশি পড়া—কোনো লিংক খুলে সরাসরি পড়ার আগে আলাদা ট্যাবে উৎসের বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করা।
তৃতীয়ত, ট্রোল ও গুজবকারীদের উপেক্ষা—তর্কে না জড়িয়ে ব্লক বা রিপোর্ট করা।
দার্শনিক উইলিয়াম জেমস বলেছিলেন, “জ্ঞানী হওয়ার শিল্প হলো কী উপেক্ষা করতে হবে তা জানা।”
আজকের দিনে কতটা জানলেন তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—কোন কোন অপ্রয়োজনীয় তথ্য এড়িয়ে সময় ও মানসিক শান্তি রক্ষা করলেন।
স্কুল-কলেজে এই ‘উপেক্ষার দক্ষতা’ শেখানো হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তথ্যের সাগরে ডুবে যাওয়ার ঝুঁকি কমাতে পারবে।
সূত্র: দ্য কনভারসেশন