জৈবুন নেছার জমি ভূমি দস্যুরা জোর করে দখল করার অপচেষ্টা করছে

Tanjir Khan Rony | প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২৬, ২০:১৮
জৈবুন নেছার জমি ভূমি দস্যুরা জোর করে দখল করার অপচেষ্টা করছে

অভিযোগ সূত্রে জানা যায় পৈত্রিক সূত্রে জমির দলিলের মালিক হন ভুক্তভোগী জৈবুন নেছার বাবা। তার বাবার মৃত্যুর পর জমির মালিক হন সন্তানেরা। এরপর থেকে গত ৫৩ বছর ধরে জমিটিতে ঘরবাড়িদ্য ও চাষবাস করে ভোগদখল করছেন তারা। কিছুদিন আগে কিছু ভূমি দস্যুর নজর পরে এই জমির উপর এবং কিছু কাগজপত্র সংরক্ষণ করে অন্য দলিল দিয়ে দাগ নাম্বার ভিন্ন রেখে জমি দখলের অপচেষ্টায় লিপ্ত তারা। গোপনে নামজারি করানোর চেষ্টা করছে মিরপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসি ল্যান্ড অফিসের সার্ভেয়ারের সহযোগিতায়।


পৈত্রিক সূত্রে জমির মালিক হন ভুক্তভোগী জৈবুন নেছা, সম্পত্তি দখলে আছেন দীর্ঘ ৫৩ বছর ধরে, বর্তমানে তার দখলেই আছে জমি। জৈবুন নেছার পৈত্রিক মালিকানা সম্পত্তির সংক্ষিপ্ত বিবরণ মৌজার নাম বাউনিয়া-১, সিএস দাগ নং- ৩২৮০/৩৪৩৮, সিটি খতিয়ান নং- ২৯২৮, আর এস দাগ নং- ১০১০৯,১০১১৪,১০১১৫, নামজারি খতিয়ান নং ২০২৬-১০১৭৩৭, সিটি দাগ নং ৩৭০৩০, জমি শ্রেণী পুকুর (আবাসিক), জমি পরিমান ১৬.৪১২ (শতাংশ)। সিটি দাগ নং ৩৭০৩১, জমি শ্রেণী পুকুর (আবাসিক), জমি পরিমান ১ (শতাংশ), মোট জমির পরিমাণ- ১৭.৪১২ (শতাংশ)।


মিরপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসি ল্যান্ড অফিসে তথ্য সংগ্রহের জন্য উপস্থিত হলে এক ভুক্তভোগী বলেন সার্ভেয়ারের দুর্ব্যবহারের শিকার হয়েছেন তিনি, তার ফাইল আটকে হয়রানি সহ বিভিন্ন অনৈতিক বিষয়ের প্রতিকার ও তার বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগ আমলে নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও ঢাকা জেলা প্রশাসকের বরাবরে অভিযোগ দায়ের করেছেন ।

ইতিমধ্যে এই সার্ভেয়ারের বিরুদ্ধে যে সমস্ত অভিযোগ উঠেছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো নামজারি (মিউটেশন) ও খতিয়ানে ভুল সংশোধনসহ বিভিন্ন বিষয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায়, দিনের পর দিন ফাইল আটকে রাখা এবং মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে ভূমিদস্যু চক্রকে সহযোগিতা করা।


এই বিষয়ে আমরা কথা বলি অ্যাডভোকেট সুমন জোয়ারদারের সাথে তিনি বলেন মিথ্যা তথ্য দিয়ে নামজারি করা অথবা দলিলের দাগ নাম্বার এবং দখলকৃত জমির দাগ নাম্বার মিল না রেখে বিবাদীকে নোটিশ না করে নামজারি করা। মিথ্যা দলিল বানিয়ে জোর করে বা হুমকি দিয়ে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি অন্যের জমিতে প্রবেশ করে এবং সেই জমি নিজের বলে দাবি করে ভোগদখল করে, তাহলে সেটি জোরপূর্বক জমি দখল হিসেবে বিবেচিত হয়।


বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, জোরপূর্বক জমি দখল করা একটি ফৌজদারি ও দেওয়ানি উভয় অপরাধ। দণ্ডবিধি ৪৪১ ধারা – অবৈধ অনুপ্রবেশ (ক্রিমিনাল ট্রেসপাস): অনুমতি ছাড়া কারও জমিতে প্রবেশ করাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়।


দণ্ডবিধি ৫০৬ ধারা – ভয়ভীতি বা হুমকি প্রদান: হুমকি বা ভয় দেখিয়ে জমি দখল করা হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা যায়।


মন্তব্য করুন

Login to comment

জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

Global Before Footer