প্যারোলে মুক্তি মেলেনি সাদ্দামের: কারাগারের ফটকেই পাঁচ মিনিটের দেখা, একটি জীবনের শূন্যতা
Mousumi Nargis lucky |
প্রকাশ: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৫১
একটি মানুষ কতটা অসহায় হলে নিজের স্ত্রীর লাশ ছুঁয়ে দেখে আর জীবনে প্রথমবার নিজের সন্তানকে কোলে তোলে—তাও মৃত অবস্থায়?
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটকে সেই দৃশ্য ছিল পাথরকেও কাঁদানোর মতো। বন্দি জুয়েল হাসান সাদ্দাম পাঁচ মিনিটের জন্য দূর থেকে নয়, একেবারে কাছে গিয়ে দেখলেন তার জীবনের সবটুকু—নিঃশেষ হয়ে যাওয়া একটি সংসার।
স্ত্রী আর নয় মাসের শিশুর নিথর দেহ। একদিকে শোক, অন্যদিকে লোহার গেট, পাহারা আর নিয়মের দেয়াল।
প্যারোলে মুক্তি মেলেনি। তাই কারাগারের ফটকেই শেষ দেখা। যে মানুষটি জীবনে শক্ত থাকতে শিখেছিল, সেদিন সে কেঁদেছে—নিঃশব্দে, অসহায়ভাবে। বাইরে অপেক্ষমাণ স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছিল বাতাস।
আইনের শাসন প্রয়োজন, নিয়মও প্রয়োজন। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—মানবিকতার জন্য কি কোথাও একটু জায়গা নেই? যে মানুষটি কোনো হত্যা মামলার আসামি নয়, তার জীবনের সবচেয়ে বড় শোকের দিনে তাকে স্ত্রীর জানাজায় দাঁড়াতে না দেওয়াটা কি কেবল নিয়ম, নাকি আমাদের সমাজের হৃদয়হীনতার প্রতিচ্ছবি? সেই পাঁচ মিনিট শুধু একটি শেষ দেখা নয়—ওটা ছিল একটি জীবনের সব আলো নিভে যাওয়ার দৃশ্য।