সুদসহ আমানত ফেরতের দাবিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধে জলকামান
রাজপথ ডেস্ক
একীভূত হওয়া পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের আমানতকারীরা সুদসহ গচ্ছিত অর্থ দ্রুত ফেরতের দাবিতে বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন।
একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা মতিঝিলের শাপলা চত্বরের প্রধান সড়ক অবরোধ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জলকামান ব্যবহার করে তাদের সরিয়ে দেয়।
ইউনিয়ন ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক—এই পাঁচটি ব্যাংক নিয়ে গঠিত ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’-এর গ্রাহকেরা দীর্ঘদিন ধরে তাদের আমানত ফেরতের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন।
বৃহস্পতিবারের কর্মসূচিতে তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে ‘হেয়ার কাট’ সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে স্লোগান দেন।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২৪ ও ২০২৫ সালের আমানতের ওপর মাত্র ৪ শতাংশ মুনাফা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যা ‘হেয়ার কাট’ নামে পরিচিত।
বক্তারা এটিকে আমানতকারীদের প্রতি অন্যায্য ও অমানবিক সিদ্ধান্ত বলে উল্লেখ করেন।
বিক্ষোভকারীরা জানান, অনেক গ্রাহক তাদের সঞ্চিত মূলধন ও মুনাফা তুলতে না পেরে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
তারা অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত বাতিল করে আমানতের পুরো অর্থ ফেরত দেওয়া এবং ব্যাংকিং কার্যক্রম স্বাভাবিক করার দাবি জানান।
সকাল ১১টায় শুরু হওয়া কর্মসূচিতে বক্তারা আরও বলেন, শরিয়াহভিত্তিক এই ব্যাংকগুলোর মুনাফা কমিয়ে মাত্র ৪ শতাংশ নির্ধারণ করা আমানতকারীদের অধিকারের পরিপন্থী।
দাবি আদায় না হলে আগামী ১২ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংক ঘেরাওসহ আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা।
বিক্ষোভের কারণে মতিঝিল এলাকায় দীর্ঘ সময় যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়।
ঘটনার পর এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠনের চলমান প্রক্রিয়ায় গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ব্যাংক খাতের এই অস্থিরতায় সাধারণ আমানতকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে এবং তারা দ্রুত সংকট সমাধানে সরকারের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।